আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

World Children’s Cancer Day
15/02/2021
International Mother Language Day
22/02/2021
Show all

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত।
বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে এই দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
পত্রিকা থেকে নেয়া কিছু ইতিহাসঃ
পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশে তখন এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর কারণ যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি নিয়ে ছাত্র-যুবসমাজে শাসকবিরোধী মনোভাবের বিস্তার, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা-সংকট, যা সমাজের প্রায় সব শ্রেণীকেই কমবেশি স্পর্শ করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকা সফরে আসেন। ২৭ জানুয়ারি (১৯৫২) পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে আমরা এছলামী রাষ্ট্ররূপে গঠন করিতে যাইতেছি।…প্রাদেশিক ভাষা কি হইবে তাহা প্রদেশবাসীই ঠিক করিবেন, কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে উর্দু’ (দৈনিক আজাদ, ২৮ জানুয়ারি ১৯৫২)।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার বিরুদ্ধে বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবি বায়ান্ন সালে পৌঁছে এতটা ব্যাপক হয়ে উঠেছিল যে ঢাকার জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি ঢাকার বাইরে একাধিক শহরে অধিকতর উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হয় (সাপ্তাহিক ইত্তেফাক , ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২)।
১৯৫২ সালের এই দিনে অর্থাৎ বাংলা ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ ও ইংরেজি ২১ ফেব্রুয়ারি , ১৯৫২ বৃহস্পতিবার দিন বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০১০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।